বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বিনির্মাণে আগামীকাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে সৌদি আরব-বাংলাদেশ বিজনেস সামিট। নবগঠিত সৌদি আরব–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএবিসিসিআই) আয়োজনে রাজধানীতে এ সামিটে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ব্যবসায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা।
গতকাল সিটি ব্যাংক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন এসএবিসিসিআইর সভাপতি আশরাফুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। সে পারস্পরিক সম্পর্ক টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ব্যবসায়ী মহল অনেক আগেই সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্লাটফর্ম গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার আমরা সেই মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প বাজার হয়ে উঠবে। বিশেষত টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, জনশক্তি রফতানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃষিপণ্য ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বিশাল সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষ-অদক্ষ জনশক্তির সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব। বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশী সৌদি আরবে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। দেশটিতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহে প্রস্তুত যেমন নার্স, প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইটি বিশেষজ্ঞ, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ, হসপিটালিটি সেক্টরের পেশাজীবী, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট, অর্থ ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি সম্ভাব্য সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
সংগঠনের সহসভাপতি ও গ্যালাক্সি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ বলেন, ‘সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের বাণিজ্যের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদেশী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আইন পরিবর্তন করেছে। এটি আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ। এখন কত সংখ্যক বাংলাদেশী সৌদি আরবে নিজ মালিকানায় ব্যবসা করছে সেটার সঠিক সংখ্যা বলা যাবে না। তবে সামিটের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্পর্ক জোরদার হবে।’
প্রাণ আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবে ২৫ বছর ধরে পণ্য বিক্রি করে আসছি। এবার দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ এসেছে। নার্স, আইটি সেক্টরে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রয়োজন। যেটি এ সামিটে হতে যাচ্ছে।’
সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউল আসিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘দুই দেশের আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য. ট্যুরিজম, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ আনা সম্ভব হবে। তারা যেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগে আমরা সহযোগিতা করতে পারি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বিজনেস সামিটে সৌদি আরবের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন শেখ ওমর আব্দুল হাফিজ আমিরবকশ।